সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন
পর যেন আমি সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরি।
এটা ভেবেই ভালো লাগে যে সারাদিন পর আমি সুস্থ আর স্বাভাবিক ভাবে ঘরে ফিরতে পেরেছি। এটাই অনেক নয় কি?
বাড়িতে ঠিকঠাক ফেরা। রাস্তায়ে কোনো গুন্ডা, বদমায়েস বা অফিসে কোনো কলীগ বা চেনাশোনা কোনো লোকের কাছ থেকে কোনভাবে হেনস্থা না হয়ে শারীরিক আর মানসিক ভাবে ঠিকঠাক ফিরে আসা।
আমি ২০১৪ সালের সেই মহিলা যে শিক্ষিত, স্বেচ্ছাচারী,স্বাধীনচেতা, নিজের উপার্জন নিজে করি , নিজের শরীরের যত্ন করি বয়স যতই হোক না কেন, নিজের সন্তান কে বড় করি যত টুকুই সময় দিক না কেন কাজের পর, তাকে একা কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই বড় করতে পারি। কিন্তু আজও আমাকে ভাবতে হয় রাত দশটা বেজে গেলে বাড়িতে একা ফেরাটা সেফ হবে কিনা? আমি যদি বেশি ড্রিংক করি কোনো ক্লাবে বসে তাহলে সে সুযোগ কেউ নেবে কিনা? আমাকে ড্রেস পড়তে হবে এটা ভেবে যে সেই ড্রেস এ কেউ উত্তেজিত হবে কি হবেনা? আমার বিয়ে তিরিশ বছরের মধ্যে না হলে আমার মা, বাবাকে প্রত্যেক অনুষ্ঠানে অনেক কথা শুনতে হয়. বিয়ে যদি হয়েও যায় তিরিশের মধ্যে বাচ্চা না হলে, হয় আমি অসুস্থ নয় বাজা। তারপর যদি সন্তান হয় আর যদি ছেলে হয় তাহলে আমি পুণ্য করেছি আর সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছি। আর সে যদি মেয়ে হয় তাহলে আজও আত্মীয়রা পেছনে হাসবে।মনের সাধ মিটলনা ছেলেকে বিয়ে দিয়ে। নাতির সুখ কপালে হলনা।
সন্তান যাই হোক না কেন তাকে ধীরে ধীরে মেনে নেয় এই সমাজ, আত্মীয়রা ,যাই হোক বংশধর। কিন্তু এবার তাকে বড় করার দায়িত্ব সুধুই যেন আমার।তার জন্য আমাকে জলাঞ্জলি দিতে হবে আমার ক্যারিয়ার,শখ,স্বপ্ন সবকিছু। আত্মীয়রা বলবে সন্তানের জন্য সব করা যায়। তার দায়িত্ব সুধু মা র। বাবার অত দায়িত্ব নেই সেটা আমি নিজেই মনে করি. ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট দিলেই যথেষ্ট। তারপর আমিই সেই একই পথে চলবো।সারাদিন তার জন্যই চিন্তা। টেনসন, তার থেকে সুগার, ব্লাড প্রেসার, অম্ল ইত্যাদি রোগ হবে। সন্তান বড় হলে পড়াশোনা শেখাতে হবে বেস্ট স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি থেকে। পড়াশোনা এ ভালো হলে খারাপ হয়ে যাবার চিন্তা আর খারাপ হলে কি করে ভালো করব তার চিন্তা। এরপর বিদেশে চাকরি করবে আর একটা ভালো বিয়ে দিতেই হবে। বিয়ে দিয়ে মুখে বলব আমার সব দায়িত্ব শেষ কিন্তু আসলে ছাড়বনা কিছুই। সন্তান কি আর বড় হয়? যতই বড় চাকরি করুক আর স্বপ্ন দেখুক মায়ের কাছে ছোটই থাকে। তাই ঢুকে যাব তাদের বৈবাহিক জীবনে। আমি যা বলি ভালোর জন্যই বলব এবং তাই হবে. তা না হলে আমার চলবেনা। কারণ আমার যে আর কিছুই নেই করার। হবে রণক্ষেত্র, রক্ত ঝরবে বুকে। আমার,তার আর আশেপাশের অনেকের। আমার তো আর কিছুই রইলনা বেচে থাকার। আমি টুকু তো কবেই বিসর্জন করে দিয়েছি। সবটাই তার জন্য ছিল। এই আমি তার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিলাম সুতরাং এবার হিসেবের পালা, তাকে করতে হবে আমি যা চাইব।ফলত সে যখন তার জীবন খুঁজে নিতে আর বাচবার জন্য দূরে চলে যাবে আমার থেকে সেই দুঃখ নিয়ে আর অভিমান করেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেব। মৃত্যু মুখে একটাই প্রশ্ন নিয়ে মরব, 'আমি আসলে কে?'
হায় বিদ্যাসাগর! পারলেনা তুমি বাঁচাতে আমাদের। দোষ তোমার নয় গুরুদেব তুমি পুরুষ হয়ে আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে কিন্তু আমি যদি নিজেই নিজেকে না বাচাই তাহলে কি করে বাচানো সম্ভব? আমি সেই মেয়ে যাকে দুশো বছর আগে তুমি বাঁচাতে চেয়েছিলে। আজ দুশো বছর পরে আমি দাবি করি যে আমি জীবিত কিন্তু আজও পারলামনা এই আমাকে খুজতে।
আমি সেই নিজেকে খুঁজে চলেছি শুধু বাচবার আশায়।
পর যেন আমি সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরি।
এটা ভেবেই ভালো লাগে যে সারাদিন পর আমি সুস্থ আর স্বাভাবিক ভাবে ঘরে ফিরতে পেরেছি। এটাই অনেক নয় কি?
বাড়িতে ঠিকঠাক ফেরা। রাস্তায়ে কোনো গুন্ডা, বদমায়েস বা অফিসে কোনো কলীগ বা চেনাশোনা কোনো লোকের কাছ থেকে কোনভাবে হেনস্থা না হয়ে শারীরিক আর মানসিক ভাবে ঠিকঠাক ফিরে আসা।
আমি ২০১৪ সালের সেই মহিলা যে শিক্ষিত, স্বেচ্ছাচারী,স্বাধীনচেতা, নিজের উপার্জন নিজে করি , নিজের শরীরের যত্ন করি বয়স যতই হোক না কেন, নিজের সন্তান কে বড় করি যত টুকুই সময় দিক না কেন কাজের পর, তাকে একা কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই বড় করতে পারি। কিন্তু আজও আমাকে ভাবতে হয় রাত দশটা বেজে গেলে বাড়িতে একা ফেরাটা সেফ হবে কিনা? আমি যদি বেশি ড্রিংক করি কোনো ক্লাবে বসে তাহলে সে সুযোগ কেউ নেবে কিনা? আমাকে ড্রেস পড়তে হবে এটা ভেবে যে সেই ড্রেস এ কেউ উত্তেজিত হবে কি হবেনা? আমার বিয়ে তিরিশ বছরের মধ্যে না হলে আমার মা, বাবাকে প্রত্যেক অনুষ্ঠানে অনেক কথা শুনতে হয়. বিয়ে যদি হয়েও যায় তিরিশের মধ্যে বাচ্চা না হলে, হয় আমি অসুস্থ নয় বাজা। তারপর যদি সন্তান হয় আর যদি ছেলে হয় তাহলে আমি পুণ্য করেছি আর সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছি। আর সে যদি মেয়ে হয় তাহলে আজও আত্মীয়রা পেছনে হাসবে।মনের সাধ মিটলনা ছেলেকে বিয়ে দিয়ে। নাতির সুখ কপালে হলনা।
সন্তান যাই হোক না কেন তাকে ধীরে ধীরে মেনে নেয় এই সমাজ, আত্মীয়রা ,যাই হোক বংশধর। কিন্তু এবার তাকে বড় করার দায়িত্ব সুধুই যেন আমার।তার জন্য আমাকে জলাঞ্জলি দিতে হবে আমার ক্যারিয়ার,শখ,স্বপ্ন সবকিছু। আত্মীয়রা বলবে সন্তানের জন্য সব করা যায়। তার দায়িত্ব সুধু মা র। বাবার অত দায়িত্ব নেই সেটা আমি নিজেই মনে করি. ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট দিলেই যথেষ্ট। তারপর আমিই সেই একই পথে চলবো।সারাদিন তার জন্যই চিন্তা। টেনসন, তার থেকে সুগার, ব্লাড প্রেসার, অম্ল ইত্যাদি রোগ হবে। সন্তান বড় হলে পড়াশোনা শেখাতে হবে বেস্ট স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি থেকে। পড়াশোনা এ ভালো হলে খারাপ হয়ে যাবার চিন্তা আর খারাপ হলে কি করে ভালো করব তার চিন্তা। এরপর বিদেশে চাকরি করবে আর একটা ভালো বিয়ে দিতেই হবে। বিয়ে দিয়ে মুখে বলব আমার সব দায়িত্ব শেষ কিন্তু আসলে ছাড়বনা কিছুই। সন্তান কি আর বড় হয়? যতই বড় চাকরি করুক আর স্বপ্ন দেখুক মায়ের কাছে ছোটই থাকে। তাই ঢুকে যাব তাদের বৈবাহিক জীবনে। আমি যা বলি ভালোর জন্যই বলব এবং তাই হবে. তা না হলে আমার চলবেনা। কারণ আমার যে আর কিছুই নেই করার। হবে রণক্ষেত্র, রক্ত ঝরবে বুকে। আমার,তার আর আশেপাশের অনেকের। আমার তো আর কিছুই রইলনা বেচে থাকার। আমি টুকু তো কবেই বিসর্জন করে দিয়েছি। সবটাই তার জন্য ছিল। এই আমি তার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিলাম সুতরাং এবার হিসেবের পালা, তাকে করতে হবে আমি যা চাইব।ফলত সে যখন তার জীবন খুঁজে নিতে আর বাচবার জন্য দূরে চলে যাবে আমার থেকে সেই দুঃখ নিয়ে আর অভিমান করেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেব। মৃত্যু মুখে একটাই প্রশ্ন নিয়ে মরব, 'আমি আসলে কে?'
হায় বিদ্যাসাগর! পারলেনা তুমি বাঁচাতে আমাদের। দোষ তোমার নয় গুরুদেব তুমি পুরুষ হয়ে আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে কিন্তু আমি যদি নিজেই নিজেকে না বাচাই তাহলে কি করে বাচানো সম্ভব? আমি সেই মেয়ে যাকে দুশো বছর আগে তুমি বাঁচাতে চেয়েছিলে। আজ দুশো বছর পরে আমি দাবি করি যে আমি জীবিত কিন্তু আজও পারলামনা এই আমাকে খুজতে।
আমি সেই নিজেকে খুঁজে চলেছি শুধু বাচবার আশায়।